সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, নদীতীরে ভাঙন আতঙ্ক
পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। ঈদের পর থেকে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় নদীতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ দিন আগে থেকে যমুনার পানি বাড়তে শুরু করলেও ঈদুল আজহার পর ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করে। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, চরবিনানুই, কাঠালিয়া ও হিজুলিয়া এবং ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর ও ধীতপুর এলাকায় প্রায় সাত থেকে আট কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও আবাসিক স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের আবাদি জমির ফসল রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে যমুনার পূর্বপাড়ের কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার অনেক এলাকায় নৌযান ছাড়া চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করলেও মঙ্গলবার থেকে পানি কিছুটা কমছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজিপুর পয়েন্টে নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্টে পানি ২৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩২০ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। তিনি বলেন, “জুন, জুলাই ও আগস্ট মূলত বর্ষা মৌসুম। এ সময়ে নদীর পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক বিষয়। পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের নিম্নভূমি ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।” এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান।
তিনি বলেন, যমুনার খাসকাউলিয়াসহ দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে জরুরি সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে তিনি জানান, কিছু এলাকায় কোনো প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় নদীতীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বাজেট সংকটের কারণে এসব স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে স্থায়ী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
What's Your Reaction?